মেনু নির্বাচন করুন

সিরাজগঞ্জে সমবায়

সমবায়কে উন্নয়নমুখী ও টেকসই করার জন্য সমবায় অধিদপ্তরের কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ভিত্তি প্রস্তুতের ক্ষেত্রে জেলা সমবায় কার্যালয়, সিরাজগঞ্জেএ সুনিশ্চিত অংশ গ্রহণ রয়েছে। ১৯১০ সালে আরবান কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে এ অঞ্চলে সমবায়ের যাত্রা শুরু হয়। এরই ধারা বাহিকতায় বিগত বৎসরে সমূহে কর্মকর্তাগণের উদ্ভাবনী প্রয়াসের ও সমবায়ীদে অদম্য প্রচেষ্টার ফলে সমবায় গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সমবায়ের গুণগত মান উন্নয়নে সারাদেশে ন্যায় এ জেলা উৎপাদনমুখী ও সেবাধর্মী সমবায় গঠন, সমবায় উদ্যোক্তা সৃষ্টির কৌশল অবলম্বন,  সমবায় পণ্য উৎপাদন ও  বাজারজাতকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে এ জেলায় মোট সমবায় সমিতি সংখ্যা ৪৫৮২ টি এবং যার মোট সদস্য সংখ্যা ২৪২৬২২ জন। যাদের মোট শেয়ার মূলধন পরিমান- ৮০০.৮৯ টাকা ও সঞ্চয় আমানতের পরিমান- ১৭৭৭.৬০ টাকাসহ মোট কাযকরী মূলধন- ৪১৫২.৯৩ টাকা। সমবায়ীদের ভ্রাম্যমাণ ও আইজিএ  প্রশিক্ষণের মাধ্যেমে চাহিদা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ‘প্রধান মন্ত্রীর আশ্রয় প্রকল্প’, ‘ফ্যামিলীওয়েলফেয়ার প্রকল্প’ এর মাধ্যমে ১৯৮৭ সমবায়ীকে ৩৫৪.৭৯ লক্ষ টাকা  ঋণ প্রদান করা হয়েছে। চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ২১৫২ জনের    আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও ‘রূপকল্প ২০২১’, ‘এসডিজি’ অর্জন এবং ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আলোকে সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উন্নয়নমুখী ও টেকসই সমবায় গঠনের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সিরাজগঞ্জ জেলা সমবায় কাযার্লয়ের চ্যালেঞ্জ বহুবিধ। নানা শ্রেণি ও পেশার সম্মিলনে তৈরী হওয়া  বৈচিত্রময় কাযর্ক্রমে পূর্ণ এ বিপুল সমবায়কে নিয়মিত অডিট করা, নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা এবং সদস্যদেরকে দক্ষ ও আন্তরিক সমবায়ী হিসেবে গড়ে তোলা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সমবায়ীগণের চাহিদা পূরণে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান সময়ের অন্যতম দাবী। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, প্রয়োজনীয় যানবাহন ও পযাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় রুটিন কাজের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া মাঠ পযায়ে চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প না থাকায় সমবায়কে ব্যাপক ভিত্তিক উন্নয়নমুখী কাযর্ক্রমে সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে না।

সমবায় এর সংখ্যা যৌক্তিক পযায়ে নিয়ে আসার জন্য সমবায় সমিতি গুলোকে উৎপাদনমূখী ও কর্মমূখী করা । প্রয়োজনে নিবন্ধন বাতিল ও অকাযর্কর হয়ে পড়া সমবায় সমিতিসমুহকে পূনকাযকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সংখ্যক সমিতি চিহ্নিত করে উৎপাদনমুখী সমিতিতে রূপান্তর করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে জেলা সমবায় কাযলয়ের নাগরিক সেবা সহজ করা ও ট্রেড ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে সমবায় উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা ও আত্ম-কর্মসংস্থানের পথ সুগম করাও অন্যতম লক্ষ্য। সমবায়ের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের নিকট সুলভ মূল্যে পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে সমবায় পণ্যের ব্রান্ডিং, বাজারজাতকরণে সহায়তা করা হবে। এছাড়া সমবায়ের মাধ্যমে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, সুবিধাবঞ্চিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও  মহিলাদের সরাসরি ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক ও আর্থিক বৈষম্য হ্রাস এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ও ক্ষমতায়নের জন্য প্রকল্প/কর্মসূচি গ্রহণে সমবায় অধিদপ্তরে প্রকল্প/কর্মসূচির প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে।